ইরানের সামরিক বাহিনীর সিনিয়র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি জানিয়েছেন, দেশের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা যতটা শক্তিশালী, আগামীকাল তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী হব।”
মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেকারচি জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি বাড়িয়ে চলেছে। তার ভাষায়, “এই খাতে প্রতিদিনই অগ্রগতি হচ্ছে। গতকাল আমরা যে অবস্থায় ছিলাম, আজ তার চেয়ে উন্নত। আর আগামীকাল আজকের অবস্থার চেয়েও আরও এগিয়ে থাকব।”
তিনি আরও বলেন, শত্রুপক্ষের ধারণা ছিল—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি উৎসে ধ্বংস করা সম্ভব, মাঝপথে প্রতিহত করা সম্ভব, কিংবা দখলকৃত ভূখণ্ডে পৌঁছানো ক্ষেপণাস্ত্রকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। “কিন্তু তাদের সব হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে,” মন্তব্য করেন তিনি।
১২ দিনের যুদ্ধ ও ইরানের পাল্টা হামলা
১৩ জুন, ওয়াশিংটন–তেহরান পারমাণবিক আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায়, কোনো উসকানি ছাড়াই ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালায়। এই আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানে অন্তত ১,৬৫ জন মানুষ নিহত হন—যাদের মধ্যে ছিলেন সামরিক কর্মকর্তা, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিক।
এই যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রও ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দেয় এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করে। এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা এবং কাতারের আল-উদেইদ এয়ারবেস—যা পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি—লক্ষ্য করে প্রতিরোধমূলক হামলা চালায়।
২৪ জুন ইরানের সফল পাল্টা হামলার পর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত আগ্রাসন থামিয়ে দিতে বাধ্য হয়।
—
