ভারতের উত্তর প্রদেশে গরুর মাংস খাওয়ার গুজবকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ আখলাকের হত্যার মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমতি চেয়ে রাজ্য সরকার আদালতে আবেদন জানিয়েছে। ২০১৫ সালের এই বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ১৮ জন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
গত মাসে গ্রেটার নয়ডার একটি আদালতে দায়ের করা আবেদনে সরকার বলেছে, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে অসঙ্গতি আছে এবং ‘সামাজিক সম্প্রীতি পুনরুদ্ধার’–এর স্বার্থে মামলা প্রত্যাহার প্রয়োজন। তবে নিহত আখলাকের পরিবার এতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে আদালতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে দাদরির বিসাহরা গ্রামে। গোমাংস রাখার গুজবে একদল লোক রাতে আখলাকের বাড়িতে ঢুকে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে এবং তার ছেলে দানিশকে গুরুতর আহত করে। পরিবারের দাবি ছিল, ফ্রিজে পাওয়া মাংস খাসির, গরুর নয়। ঘটনাটি তখন সারা দেশে বিক্ষোভ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল এবং ‘মবলিঞ্চিং’ শব্দটি ভারতে ব্যাপক আলোচনায় আসে।
এই মামলায় প্রথমে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হলেও পরে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ জনে। ২০১৬ সালে জেলে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত রবিন সিসোদিয়ার মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়; তাকে ‘শহিদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।
মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে, কিন্তু এতদিনে মাত্র একজন সাক্ষীর জবানবন্দি আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে। সরকার তার আবেদনে যুক্তি দিয়েছে—ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের সংখ্যা ভিন্নভাবে উল্লেখ করেছেন, যা অসঙ্গতি তৈরি করেছে। তবে পরিবারের আইনজীবীর বক্তব্য, ঘটনার বিশৃঙ্খলার সময় সবাই সবার মুখ দেখতে পারেনি—এটাই স্বাভাবিক; মূল বিষয় হলো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না।
উল্টো আখলাকের পরিবারের বিরুদ্ধেও গোহত্যা নিষিদ্ধ আইনে একটি মামলা এখনো বিচারাধীন। আইনজীবীর দাবি, পরিবারকে চাপ দিতে এই মামলাটি করা হয়েছিল।
মামলা প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের ভাই জান মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ১০ বছরের লড়াই এভাবে শেষ করার চেষ্টা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পরিবারের এখন নিরাপত্তা নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
আগামী ১২ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। পরিবারের আশা, আদালত শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।







