আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম-নির্যাতনের দুই মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযুক্ত শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাদের ভার্চ্যুয়াল হাজিরা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের বিচারপতি কিংবা সাবেক সিনিয়র মন্ত্রীদের যেসব সুবিধা দেওয়া হয়নি, সেনা কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও আলাদা সুবিধার প্রশ্ন আসে না।
রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, গুম ও হত্যা মামলায় যেসব ব্যক্তি আসামি হয়েছেন, তাদের নিয়মিতভাবে সরাসরি ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে হবে। আদালত মনে করে, ভার্চ্যুয়াল হাজিরার প্রয়োজন নেই এবং আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান—সবার ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য।
তবে ডিফেন্স পক্ষ এ বিষয়ে পুনরায় শুনানির আবেদন জানায়। ট্রাইব্যুনাল জানায়, তাদের যুক্তি আবারও শোনা হবে। এ বিষয়ে কোনো আদেশ না দিয়ে আগামী ৩ ও ৭ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণে দেখা গেছে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান শত শত মানুষকে গুম ও হত্যা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পাওয়া এভিডেন্সে উল্লেখ আছে, বহু মানুষের শরীরের পেট চিরে লাশ নদী-নালা ও খালে-বিলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এমন নৃশংস অভিযোগের কারণে তাঁর ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
