আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বছরের শুরুতেই ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। প্রার্থীরা তালিকা ঘোষণার পর থেকেই নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ, জনসাধারণের খোঁজখবর নেওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে ভোটের প্রস্তুতি জোরদার করেছেন। দলের সিদ্ধান্ত হলো—সব আসনেই আপাতত একক প্রার্থী থাকলেও নির্বাচনি কৌশল অনুযায়ী কিছু জায়গায় প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নেতাকর্মীরা মনে করেন, দলীয় আনুগত্যশীল কর্মীরা যে কোনো সিদ্ধান্তেই একসঙ্গে কাজ করবেন।
দলীয় কাঠামো অনুযায়ী কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং ভোটকেন্দ্র পর্যায় পর্যন্ত নির্বাচনি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন সারা দেশে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে, যা কয়েক মাস আগে থেকেই প্রস্তুত করা হয়েছে।
জামায়াত ৭ শরিক দলের জন্য কিছু আসন ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের প্রার্থী তালিকায় যুক্ত করার বিষয়ে কাজ করছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে জেলা থেকে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত নির্বাচনি কমিটিতেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর দেশের অস্থির পরিস্থিতিতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা জনগণের জানমাল রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী ভূমিকা পালন করেন। এরপর থেকে দলটি একদিকে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের দায়িত্ব গ্রহণ করে, অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করে।
এ লক্ষ্যে সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহকে সেক্রেটারি করে আট সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি গঠন করা হয়। পরে দেশের সব মহানগর, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং ভোটকেন্দ্র পর্যায়ে নির্বাচনি কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ জানান, তারা জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ এবং জুলাই গণহত্যার বিচারসহ পাঁচ দফা দাবিতে সমমনা সাত দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে আছে। শরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে, ফলে নির্বাচনি কমিটি ও এজেন্ট তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।
কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, আগেভাগেই প্রার্থী ঘোষণা এবং মাঠপর্যায়ে কর্মীদের তৎপরতা জামায়াতকে নির্বাচনি প্রস্তুতির দিক থেকে এগিয়ে রেখেছে। ভোটকেন্দ্রভিত্তিক পোলিং এজেন্ট নির্ধারণ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলমান, যদিও শরিকদের জন্য আসন সমন্বয়ে কিছু পরিবর্তন হতে পারে।







