দুবাই এয়ার শোতে ভারতের তেজস যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ায় দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা লেগেছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে পাইলট উইং কমান্ডার নমাংশ সিয়াল নিহত হন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চার দশকের প্রচেষ্টায় তৈরি তেজসকে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিষ্ঠার ভারতীয় পরিকল্পনা এ ঘটনায় সাময়িকভাবে থমকে যেতে পারে। দুর্ঘটনের কারণ এখনও পরিষ্কার নয়, তবে এমন জনসমক্ষে ব্যর্থতা তেজসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্লেষক ডগলাস বার্কির মতে, এ ধরনের দুর্ঘটনা কোনো দেশের সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকায় সম্ভাব্য রপ্তানি বাজার আপাতত সংকুচিত হবে।
হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (এইচএএল) বর্তমানে ১৮০টি উন্নত এমকে-ওয়ানএ ভেরিয়েন্ট সরবরাহের কথা থাকলেও জিই অ্যারোস্পেসের ইঞ্জিন সরবরাহ সংকটে প্রকল্পটি বিলম্বিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে স্কোয়াড্রন সংকটে পড়া ভারত অতিরিক্ত রাফালসহ প্রস্তুত যুদ্ধবিমান কেনার বিকল্প বিবেচনা করছে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব স্কোয়াড্রন প্রতিস্থাপন করার কথা ছিল, সেগুলোতে তেজস আনার পরিকল্পনা উৎপাদন সমস্যার কারণে আটকে গেছে।
এদিকে পাকিস্তানের জেএফ-১৭ ব্লক ৩–এর প্রদর্শনী ও দুবাই এয়ার শোতে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতির মধ্যেই তেজসের এ দুর্ঘটনা আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র করেছে। দুর্ঘটনাটি ভারতের যুদ্ধবিমান রপ্তানির আকাঙ্ক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে ম্লান করেছে।







