মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ চ্যালেঞ্জে জয়,চৌধুরী মঈনুদ্দিনের কাছে ব্রিটিশ সরকারের ক্ষমা ও বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক চৌধুরী মঈনুদ্দিনের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার লন্ডনের রয়েল কোর্ট অব জাস্টিসে উপস্থিত হয়ে হোম অফিসের আইনজীবী এই ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেন।
দীর্ঘদিন চলা মানহানির মামলায় এদিন চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।
২০১৯ সালে ব্রিটিশ হোম অফিসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চৌধুরী মঈনুদ্দিনকে ‘এক্সট্রিমিজমের সঙ্গে জড়িত’ বলে অভিযুক্ত করা হয়। সেখানে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া বিতর্কিত আইসিটি রায়ের উল্লেখ করা হয়েছিল। এর পর তিনি হোম সেক্রেটারির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন এবং দাবি করেন—এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
গত বছরের ২০ জুন যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর পক্ষে যুগান্তকারী রায় দেয়। রায়ে বলা হয়—নিজ দেশের নাগরিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলতে হলে সরকারকে শক্ত প্রমাণ দিতে হবে। অথচ হোম অফিস কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
সেই রায়ের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ব্রিটিশ সরকার স্বীকার করে যে মঈনুদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রকাশিত তথ্য ছিল ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’। একই সঙ্গে তাকে ক্ষতিপূরণও প্রদান করা হয়, যা ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া বৃহত্তম মানহানি ক্ষতিপূরণগুলোর একটি।
চৌধুরী মঈনুদ্দিনের আইনজীবী অ্যাডাম টিউডর আদালতে বলেন—মিথ্যা অভিযোগের কারণে তাঁর মক্কেল দীর্ঘ ছয় বছর মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। হোম অফিস বহুবার দাবি খারিজের চেষ্টা করলেও কোনো সময়ই অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।
রায় ঘোষণার পর মঈনুদ্দিন বলেন,
“এটি আমার জন্য আনন্দ ও গৌরবের। সত্য যে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়—এই রায় আবারও তা প্রমাণ করল। দীর্ঘ আইনি লড়াই ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক, কিন্তু আমি সন্তুষ্ট যে ব্রিটিশ আদালত ও সরকার আমাকে ন্যায়বিচার দিয়েছে।”
চৌধুরী মঈনুদ্দিন ১৯৭৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং ১৯৮৪ সাল থেকে ব্রিটিশ নাগরিক। বাংলাদেশের করা অভিযোগগুলো তিনি সবসময় মিথ্যা ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত দাবি করে আসছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তাঁর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়াকে তীব্র সমালোচনা করেছিল।
এই রায়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছেন কমিউনিটি নেতা চৌধুরী মঈনুদ্দিন।
