বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের ৩৭১ জন শিক্ষক ‘ইসলামের মোড়কে বাউল দর্শন ও আচারভিত্তিক প্রতারণা বন্ধ করতে হবে’ শিরোনামে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। শনিবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে তারা বলেন, বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ বিভিন্ন মত ও সংস্কৃতির প্রতি সহনশীল হলেও বাউল দর্শনের কিছু আচার ও দেহতত্ত্বনির্ভর রীতিনীতি দেশের মূল মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিবৃতিতে ড. আনোয়ারুল করিমের ‘বাংলাদেশের বাউল’ গ্রন্থের উদাহরণ উল্লেখ করে বলা হয়, বাউল সম্প্রদায়ের কিছু আচার—যেমন মাসিক রক্ত, বীর্য বা স্তনদুগ্ধ পান, গাঁজা সেবন, দেহতত্ত্বভিত্তিক রতি-সাধনা, ‘প্রেমভাজা’ নামে অস্বাস্থ্যকর মিশ্র পদার্থ ভক্ষণ ও বিবাহবহির্ভূত যৌনাচার—সমাজের নৈতিকতা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
শিক্ষকরা বলেন, বাউলদের নিজস্ব পরিমণ্ডলে থাকা দর্শনচর্চা সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। কিন্তু যখন তা ইসলামের ছদ্মবেশে জনসমক্ষে উপস্থাপিত হয়, তখন বিভ্রান্তি ও প্রতারণার জন্ম দেয়।
বিবৃতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বাউল আবুল সরকারের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়। অভিযোগ করা হয়, তিনি একটি অনুষ্ঠানে কুরআনের আয়াত বিকৃত করে পাঠ করেছেন, আল্লাহ সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করেছেন এবং বাউল দর্শনের শিরকপূর্ণ ধারণা ইসলামের নামে প্রচার করেছেন।
৩৭১ জন শিক্ষক বলেন, এসব বক্তব্য সমাজে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং তারই প্রেক্ষিতে তাকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের সংঘর্ষমূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়, তবু উত্তেজনা সৃষ্টির মূল উসকানি আবুল সরকারের দিক থেকেই এসেছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যিনি সামাজিক অস্থিরতার সূত্রপাত ঘটিয়েছেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি কোনো বিবেকবান মানুষের কাজ হতে পারে না। কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী বাকস্বাধীনতার নামে তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
শিক্ষকরা রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দাবি জানান— আবুল সরকারের ধর্ম অবমাননাকর, বিভ্রান্তিমূলক ও অশান্তিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ইসলামের মোড়কে বাউল আচার-দর্শনের প্রতারণামূলক প্রচার বন্ধ করতে হবে।
বিবৃতি প্রদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন ১০০ জন অধ্যাপক, ৭৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৯৯ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৯৮ জন লেকচারার। তাদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে www.mullobodh.com–এ।
উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাবিনা ইয়াসমিন ও অধ্যাপক মনজুরুল মুহম্মদ করিম, বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফয়সল, বুটেক্সের অধ্যাপক মাহমুদা আক্তার, সিটি ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি অধ্যাপক কাজী শাহাদাৎ কবীর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আয়েশা আখতারসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের আরও অনেকে।
