চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদ এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাংলা মদ তৈরির কারখানা ও বন্যপ্রাণী শিকারের সরঞ্জামসহ দুইজনকে আটক করেছে প্রক্টরিয়াল বডি। সোমবার (১ নভেম্বর) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
আটক হওয়া দুজনের একজন সুমন চাকমা। তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লিজ নেওয়া বখতিয়ার ফকিরের জমিতে বসবাস ও চাষাবাদ করতেন। প্রক্টরিয়াল বডির দাবি, গোয়ালঘরের পেছনে লম্বা বারান্দাজুড়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলা মদ তৈরি করতেন। পাশাপাশি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জঙ্গল থেকে বন্য শুকর, হরিণ, বন্য মুরগিসহ বিভিন্ন প্রাণী শিকার করে তাদের মাংস বিক্রি করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী তাঁর কাছ থেকে নিয়মিত মদ কিনতেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে।
সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন জানান, বায়োলজিক্যাল সায়েন্স এলাকার পুকুরপাড়ে বহিরাগতদের উপস্থিতি ও কিছু শিক্ষার্থীর নিয়মিত যাতায়াত সন্দেহজনক মনে হলে প্রথমে গোপনে নজরদারি চালানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে অভিযান পরিচালনা করে বাড়িটি ঘিরে ফেলা হয়। সুমন চাকমা ও তার সঙ্গে থাকা নারীকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারীকে নিজের স্ত্রী নয় বলে জানান সুমন।
তল্লাশিতে ঘরের পেছনের মদের কারখানা থেকে প্রায় ৩০ লিটার সদ্য প্রস্তুত গরম মদ, ৫ লিটার ডেক্সি, ডেলিভারি–প্রস্তুত বোতলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। মদ বিক্রির হিসাব সংবলিত একটি নোটবুকও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, বন্যপ্রাণী হত্যা ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে মামলা দিয়ে সুমন চাকমাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের লিজকৃত জমিতে অবৈধ কারবার চালানোর ঘটনায় লিজ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন। এছাড়া অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার অভিযোগে লিজগ্রহীতার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
