১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি হয়, যখন অযোধ্যায় অবস্থিত ষোড়শ শতাব্দীর বাবরি মসজিদ উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের হাতে ধ্বংস হয়। সেদিন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বিজেপির নেতৃত্বে প্রায় দেড় লাখ করসেবক শোভাযাত্রা নিয়ে অযোধ্যায় প্রবেশ করে। রামের জন্মস্থান দাবি করে—যার পক্ষে কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ ছিল না—অনেক আগে থেকেই পরিকল্পিত এই অভিযানকে শোভাযাত্রার আড়ালে বাস্তবায়ন করা হয়।
অযোধ্যায় পৌঁছানোর পর উত্তেজনা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। শাবল, হাতুড়ি ও ভারী সরঞ্জামের আঘাতে মুহূর্তেই শহীদ করে দেওয়া হয় বাবরি মসজিদকে। এই বর্বর হামলায় শুধু একটি স্থাপনা নয়, ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের হৃদয়ও ক্ষতবিক্ষত হয়। ঘটনাটির পর দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বহু মানুষ প্রাণ হারান।

তিন দশক পরও এই দিনের বেদনা, ক্ষোভ ও স্মৃতি মুসলিমদের মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে। যে উগ্র গোষ্ঠী বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মতো ভয়াবহ ঘটনার জন্ম দিয়েছিল, সেই গোষ্ঠীরই অনেকে আজ সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে নৈতিকতার পাঠ দেওয়ার চেষ্টা করছে—যা আরও বেদনাদায়ক বাস্তবতা হিসেবে সামনে আসে।







