বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রোসেন ঝেলিয়াজকভ ব্যাপক বিক্ষোভ ও ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে আকস্মিকভাবে তার সরকারের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সংসদে ষষ্ঠ অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা রাজনৈতিক অচলাবস্থাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছিল। দুর্নীতি, অদক্ষ অর্থনৈতিক নীতি ও সরকারের প্রস্তাবিত বিতর্কিত বাজেটের বিরুদ্ধে রাজধানী সোফিয়া থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান শহরগুলোতে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভগুলোতে এক লাখেরও বেশি নাগরিক অংশ নেয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। জনমনে ক্ষোভ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার’ এবং ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার’ অভিযোগ তোলেন।
বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান অভিযোগ ছিল সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির সংস্কৃতি বজায় রাখা এবং বড় বড় সরকারি ঠিকাদারি প্রকল্পে অনিয়ম করা। পাশাপাশি চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণেও ঝেলিয়াজকভ সরকারের ওপর চাপ বাড়ছিল। নতুন বাজেটে কর বাড়ানো, সামাজিক সুরক্ষা খাত কমানো এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি—এসব বিষয়ও বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে ষষ্ঠ অনাস্থা ভোটের মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয় যে ঝেলিয়াজকভ সরকার তার পরিণতি বুঝতে পেরেছিল এবং সম্ভাব্য পরাজয়ের আগে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা মর্যাদা রক্ষা করতে চেয়েছে। তার পদত্যাগের পর দেশটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার দিকে এগোবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, শুধু সরকারের পতন নয়, বরং স্বচ্ছ নির্বাচন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।







