জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের বিপ্লবী যোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান হাদির ব্যক্তিগত জীবন ও তাঁর স্ত্রীর নীরব ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁকে প্রকাশ্যে কোথাও দেখা না যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠলেও খোঁজ নিয়ে ভিন্ন বাস্তবতা সামনে এসেছে।
জানা গেছে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির স্ত্রী একজন অত্যন্ত পর্দানশীন নারী। তিনি কোনো অবস্থাতেই পর্দা ভাঙতে রাজি নন বলেই ক্যামেরার সামনে কিংবা গণমাধ্যমে আসেননি। অনেকেই ভেবেছিলেন, স্বামীর শাহাদাতের ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে হাদির এক পরিচিত নারী মারফিয়া জানিয়েছেন, বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত।
মারফিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ হাদির স্ত্রী ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়চেতা ও মানসিকভাবে শক্ত। বরং তিনি আশপাশের মানুষদেরই সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আপনাদের ভাইকে বলে আসছি, কোটি কোটি মানুষ তোমার জন্য দোয়া করছে। এবার বিছানা থেকে উঠে এসো।” এই কথাতেই তাঁর বিশ্বাস, ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তার প্রতিফলন ঘটে।
জানা গেছে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি যখন গণঅভ্যুত্থানে ঝাঁপিয়ে পড়েন, তখন তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সে সময়েও তিনি স্বামীর বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে কোনো বাধা দেননি। সংসারিক অশান্তি, অভিমান কিংবা ঝগড়ার কোনো ঘটনা ঘনিষ্ঠজনদের কেউ শোনেননি। বরং হাদি যেন নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের সহযোগিতাই করেছেন তাঁর স্ত্রী।
ঘনিষ্ঠজনরা জানান, স্ত্রীর প্রতি শহীদ হাদির দায়িত্ববোধও ছিল গভীর। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখতেন। কখনো কোনো ওষুধ বা প্রয়োজনীয় জিনিস দিতে ভুলে গেলে পরে মনে পড়তেই তা পৌঁছে দিতে ছুটে যেতেন। এমন পরিস্থিতিতেও তাঁর স্ত্রী কখনো রাগ বা অভিমান করতেন না।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর সারাদেশে তাঁকে নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন ও পত্র-পত্রিকায় তাঁকে ঘিরে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এত কিছুর পরও তাঁর স্ত্রীকে কোথাও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। কোনো টেলিভিশন চ্যানেল, পত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি উপস্থিত হননি। হাসপাতালে গেলেও তিনি ছিলেন সবার নজরের আড়ালে।
ঘনিষ্ঠদের মতে, এটি তাঁর বিশ্বাস ও জীবনদর্শনেরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি মনে করেন, গণমাধ্যমে উপস্থিত হওয়া বা না হওয়াতে কোনো লাভ-ক্ষতি নেই। তাঁর বিশ্বাস, প্রকৃত ফায়সালা আল্লাহর কাছেই—যিনি সুস্থতা দানকারী, শহীদ হিসেবে কবুলকারী এবং জান্নাতের চূড়ান্ত ফয়সালাকারী।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বিপ্লবী হয়ে ওঠার পেছনে তাঁর স্ত্রীর এই নীরব, সংযমী ও দৃঢ় অবস্থান অনেকের কাছেই এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।







