হোটেল ইডেন কম্প্লেক্সে দৈনিক নয়া দিগন্তের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের সেই দুঃসহ সময়ের ছবি আবারও আলোচনায় এসেছে। ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বেলা ২টা ১৩ মিনিটে তোলা ওই ছবিতে নয়া দিগন্তের তৎকালীন নির্বাহী সম্পাদক সালাহউদ্দিন বাবর ও বার্তা সম্পাদক আযম মীরের নেতৃত্বে পত্রিকার কর্মীদের আগুন নেভাতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে দিগন্ত প্রেস থেকে অগ্নিদগ্ধ কাগজের রোল বের করতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো গণমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা বা অগ্নিসংযোগ দেশ, গণতন্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কখনোই কাম্য হতে পারে না।

এরই মধ্যে গত ১৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীতে দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে দুটি ভবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ডেইলি স্টারের কয়েকজন সাংবাদিক কার্যালয়ের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ উপলক্ষে গণমাধ্যম সম্পাদকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম দেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ওই সভায় তিনি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে দাবি করেন, বাংলাদেশের জন্মের পর এই প্রথম কোনো সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫৩ বছরে আগে কখনো কোনো মিডিয়ার অফিসে আগুন দেওয়া হয়নি।

তবে বাস্তব চিত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০১৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আরামবাগে দৈনিক নয়া দিগন্তের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় পত্রিকাটির কার্যালয়ের নিচতলায় অবস্থিত ছাপাখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং গেটে রাখা একটি গাড়ি পুড়ে যায়। পরদিন নয়া দিগন্ত পত্রিকায় ‘নয়া দিগন্তে আগুন: জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে হামলা’ শিরোনামে প্রধান সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই ঘটনায় ১৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলো তাদের সপ্তম পাতায় ‘নয়া দিগন্তের ছাপাখানা ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছিল। উল্লেখযোগ্য যে, নয়া দিগন্তের ছাপাখানাটি যে ভবনের নিচতলায় ছিল, সেই ভবনের ওপরের তলাগুলোতেই পত্রিকার নিউজরুম ও কার্যালয় অবস্থিত ছিল।
এছাড়া ২০১৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার কার্যালয়ে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। ওই ঘটনায় পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদকে টেনে হিচড়ে বের করে এনে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেদিন ভবনে সরাসরি আগুন দেওয়া না হলেও কার্যালয়ের গেটের ভেতরে পত্রিকা জড়ো করে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের আরও ঘটনায় দেশের সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলার নজির রয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ উপাত্ত এই মুহূর্তে হাতে না থাকলেও এটুকু নিশ্চিতভাবে বলা যায়, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার প্রথম ঘটনা নয়।







