লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জের চরমনসা এলাকায় বিএনপি নেতার বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ কিশোরী সালমা আক্তার স্মৃতি (১৭) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এতে ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুজনে দাঁড়াল। এর আগে একই ঘটনায় তার ছোট বোন আয়েশা আক্তার (৭) ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্মৃতির মৃত্যু হয়। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, লক্ষ্মীপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরদিন ভোরে স্মৃতি ও তার বোন সায়মা আক্তার বিথি (১৩)কে হাসপাতালে আনা হয়। স্মৃতির শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। প্রথম থেকেই তার অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিথির হাত ও পায়ের সামান্য অংশ দগ্ধ হয়েছিল। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সেদিনই ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে ভবানীগঞ্জ উপজেলার চরমনসা গ্রামের সুতারগোপ্তা এলাকায় দুর্বৃত্তরা বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের বসতঘরের বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দেয়। এতে ঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে যায় এবং আগুনে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই বেলাল হোসেনের ছোট মেয়ে আয়েশা আক্তারের মৃত্যু হয়।
অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বেলাল হোসেন, তার বড় মেয়ে স্মৃতি ও মেজো মেয়ে সায়মা আক্তার বিথি দগ্ধ হন। বেলাল হোসেন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে গুরুতর দগ্ধ স্মৃতি ও বিথিকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অগ্নিসংযোগের পেছনে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা।
