রাশিয়া চাঁদে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। দেশটির মহাকাশ সংস্থা রসকসমস জানিয়েছে, ২০৩৬ সালের মধ্যে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্র কর্মসূচির অংশ এবং চীনের সঙ্গে যৌথভাবে গড়ে তোলা একটি গবেষণা ঘাঁটিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।
রসকসমসের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চাঁদে ব্যবহৃত রোভার, বৈজ্ঞানিক গবেষণা যন্ত্রপাতি এবং ভবিষ্যতে গড়ে ওঠা দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। সৌরশক্তির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎকে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, বিশেষ করে চাঁদের দীর্ঘ রাতের সময়।
এই প্রকল্পকে এককালীন বা স্বল্পমেয়াদি মিশনের ধারণা থেকে সরে এসে চাঁদে স্থায়ী মানব ও প্রযুক্তিগত উপস্থিতি গড়ে তোলার পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়া ও চীন উভয় দেশই চাঁদে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, যার মূল ভিত্তি হবে নির্ভরযোগ্য শক্তি সরবরাহ ব্যবস্থা।
এদিকে বৈশ্বিক মহাকাশ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রও পিছিয়ে নেই। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছে, তারা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে একটি পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। নাসার এই উদ্যোগও মূলত ভবিষ্যৎ চন্দ্র ঘাঁটি, মানব বসবাস এবং গভীর মহাকাশ অভিযানের প্রস্তুতির অংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা ভবিষ্যতের মহাকাশ রাজনীতি ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং পৃথিবীর বাইরে স্থায়ী সভ্যতা গঠনের পথ আরও সুগম করবে।







