৫ আগস্টের পর থেকে দেশের ডানপন্থী ও ভারতবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে জামায়াত-শিবিরের ‘বি-টিম’ বা ‘দোকান’ হিসেবে ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বিএনপি ও শাহবাগী এক্টিভিস্টরা—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই অভিযোগের বিপরীত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বি-সি-ডি টিম কিংবা ১২ দলীয় জোটের নামে গঠিত একাধিক দল কার্যত বিএনপির ঘনিষ্ঠ অবস্থানে থেকে সংস্কার কার্যক্রমে বারবার বাধা দিয়েছে। বিএনপি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো সংস্কার প্রস্তাব এলেই দাবি করেছে—অধিকাংশ দল এই সংস্কার চায় না। অথচ সময়ের ব্যবধানে দেখা যাচ্ছে, সেই দলগুলোর শীর্ষ নেতারাই একে একে বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন বা নিজ নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপির রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন একাধিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা। এর মধ্যে দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএলডিপি)’র চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)’র চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম)’র চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। এছাড়াও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ ও গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানও বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
এই ধারাবাহিক যোগদানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—যেসব দলকে এতদিন ‘স্বতন্ত্র’ বা ‘মিত্র’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছিল, বাস্তবে সেগুলো কতটা স্বাধীন ছিল। অনেকের মতে, এসব দল বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই কাজ করেছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো চিত্র দেখা যায়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি, জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কোনো রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার নজির সাম্প্রতিক সময়ে নেই। এই বাস্তবতা দেশের রাজনীতিতে ‘বি-টিম’ ও ‘দোকান’ বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







