ঢাকা-৫ নির্বাচনী এলাকার যাত্রাবাড়ী-ডেমরা অঞ্চলে বিএনপি নেতা নবীউল্লাহ নবীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগপত্র দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নবীউল্লাহ নবী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। এমনকি অতীতে তিনি ধানের শীষের প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কাজ করায় দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নবীউল্লাহ ও তার সহযোগীরা ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের নিহতদের কেন্দ্র করে নিরীহ ও আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের মামলায় আসামি বানিয়ে অর্থ বাণিজ্য করছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নামও এ ধরনের মামলায় জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নবীউল্লাহ যাত্রাবাড়ী কাজলা এলাকায় একটি ১০ তলা ভবন দখল করে সেটিকে “নবী টাওয়ার” নামে ভোগ করছেন। একইসঙ্গে একজন লন্ডন প্রবাসীর বাড়ি দখলের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নবীউল্লাহর মেয়ের জামাই রনির নেতৃত্বে ক্যাডার বাহিনী যাত্রাবাড়ীর কাঁচামাল, মৎস্য, ছাগল, হাঁস-মুরগীর আড়ৎ, টেম্পু স্ট্যান্ড ও ফুটপাতসহ বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে। তার ভাই তারেককে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার চাঁদাবাজ বাহিনীর গডফাদার হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি শরিয়তপুর-যাত্রাবাড়ী রোড মালিক সমিতির কাছে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করার ঘটনাটি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এতে বিএনপির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নবীউল্লাহর ঘনিষ্ঠ ক্যাডাররা শুধু চাঁদাবাজি ও দখলবাজিই নয়, মাদক ব্যবসাও নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।







