আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ঐক্য অটুট রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রবণতায় চাপে পড়া দলটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে—প্রয়োজনে বহিষ্কারও হতে পারে। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, “দল যাদের মনোনয়ন দিয়েছে, তাদের বাইরে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দলের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দলীয় একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া পদধারী নেতাদের ওপর কড়া নজরদারি চলছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেতারা আরও জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও পরীক্ষিত ত্যাগী নেতা হলেও দলের বৃহত্তর স্বার্থে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকতে হবে। যাদের দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে, তাদেরও দায়িত্ব থাকবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বোঝানোর।
দল আশা করছে, স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নেতাদের শিগগিরই কেন্দ্রে ডাকা হবে। প্রথমে তাদের বোঝানো হবে এবং ভবিষ্যতে দল ক্ষমতায় গেলে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হবে। তাতেও কাজ না হলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পদে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে যারা কাজ করবেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর। ৬০টিরও বেশি আসনে দলীয় পদে থেকেও শতাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে রোববার পর্যন্ত। আপিল দায়ের করা যাবে ৫–৯ জানুয়ারি, নিষ্পত্তি হবে ১০–১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি।
এরই মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ৯ জনকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।
দলের দায়িত্বশীলরা জানান, মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য আসনেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে কয়েকজন স্বতন্ত্র বিএনপি নেতা দাবি করেন, মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রিয়তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলেই তারা প্রার্থী হয়েছেন। তারা আশা করছেন, দলের প্রতি ত্যাগ ও দুর্দিনে ভূমিকা বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কঠোরতা দেখানো হবে না। আবার কেউ কেউ জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা মেনে শেষ পর্যন্ত তারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন, তবে তার আগে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে চান। তার নির্দেশই তারা চূড়ান্তভাবে মেনে নেবেন।







