জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আবারও শাহবাগ অবরোধ করেছে তার হাতে গড়া সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের সদিচ্ছা নেই বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ৭ জানুয়ারি হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল না হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করা হবে।
আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। পরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনতার অংশগ্রহণে সমাবেশটি বৃহৎ আকার ধারণ করে। অবরোধ চলাকালে আন্দোলনকারীরা মোড়ের এক পাশে অবস্থান নেওয়ায় শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য তারা বিশ্বাস করেন না। তার ভাষায়, হাদিকে হত্যা করা হয়েছে কারণ তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ঘটনার ২১ দিন পার হলেও সরকার এখনো প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পারেনি, যা সরকারের সদিচ্ছার অভাবের প্রমাণ। সরকার ৭ জানুয়ারি চার্জশিট দেওয়ার কথা বললেও শুধুমাত্র ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানান তিনি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে, অন্যথায় ৭ জানুয়ারির পর সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আব্দুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজনকেও গ্রেপ্তার করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা। তিনি অভিযোগ করেন, ডিএমপি কমিশনার যেখানে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন যে ওসমান হাদির হত্যার সঙ্গে জড়িত দুজনকে মেঘালয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, সেখানে মেঘালয় পুলিশ সেই দাবি অস্বীকার করেছে। এর মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে আন্দোলনকারীরা ‘বইলা গেছে হাদি ভাই, আমার খুনের বিচার চাই’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘আপস না বিপ্লব, বিপ্লব বিপ্লব’, ‘শাহবাগ না ইনসাফ, ইনসাফ ইনসাফ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, নির্বাচন পর্যন্ত রাজপথে থেকেই রাষ্ট্র পাহারা দেবে ইনকিলাব মঞ্চ। হাদি হত্যার বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াই সংগঠনের সুস্পষ্ট অবস্থান বলে ঘোষণা দেন তিনি।
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বৈঠক হলে তা প্রকাশ্য হতে হবে, কোনো গোপন বৈঠক গ্রহণযোগ্য নয় এবং দিল্লির সঙ্গে কোনো গোপন সমঝোতা চলবে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেওয়া হবে না। তার মতে, ওসমান হাদি এই লড়াইয়ের পথ দেখিয়ে গেছেন এবং সেই পথ ধরেই সামনে এগিয়ে যাবে ইনকিলাব মঞ্চ।
