তাপমাত্রা কমে রাজধানীতে শীতের প্রকোপ আরো বেড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় সূর্যের আলো বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। ফলে দিনরাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীত অনুভূত হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, গত ২১ বছরের ইতিহাসে এবারের মতো দিন ও রাতের তাপমাত্রার এত পার্থক্য আর কখনো দেখা যায়নি। ঘন কুয়াশার কারণেই এমনটি ঘটছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গতকাল শনিবার রাতে আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা জানান, চলতি মাসজুড়েই শীতের প্রভাব অব্যাহত থাকবে এবং কোনো কোনো সময়ে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। এ মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি হতে পারে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার এবং এক থেকে দুটি হতে পারে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি।
গতকাল সকালে রাজধানীর আকাশ আগের দিনের মতোই কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। তবে শনিবার ঢাকায় তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে শীতের প্রকোপ বেড়ে যায়। এদিন রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন। আগের দিন শুক্রবার এ তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অন্যদিকে শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা নওগাঁ, পাবনা ও রাজশাহী জেলায় রেকর্ড করা হয়। আগের দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে দেখা যাচ্ছে, শনিবার সারা দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও রাজধানীতে তা কমেছে। গত দুই দিন ধরে দেশের অন্যান্য এলাকায় তাপমাত্রা বাড়লেও ঢাকায় ধারাবাহিকভাবে কমেছে।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা আরও বলেন, আগামী সাত দিন শীত ও তাপমাত্রার এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। বৃষ্টি না হলে রাজধানীসহ দেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুয়াশা কাটার সম্ভাবনা কম। বর্তমানে যে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে, তা আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। রাজধানীতে মাঝে মাঝে রোদের দেখা মিললেও তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে, ফলে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।
গতকাল খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর অঞ্চলে কুয়াশার পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল। অর্থাৎ যেসব অঞ্চল থেকে ঘন কুয়াশার সূচনা হয়েছিল, সেসব দিক থেকেই ধীরে ধীরে কুয়াশা কমতে শুরু করেছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশজুড়ে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হতে পারে।
