হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলন দমনে পুলিশের গুলিতে শিশুসহ ৯ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক নারী–পুরুষ আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম ছিল উপপরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ। ওইদিনের ঘটনার পর থেকেই তিনি ব্যাপক জনরোষের মুখে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় মদদপুষ্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের একদফা দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন বানিয়াচংয়ে ছাত্র–জনতার একটি মিছিলে হামলা চালানো হয়। এতে পরিস্থিতি দ্রুত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং হবিগঞ্জ জেলা সিলেট বিভাগের মধ্যে সর্বাধিক নিহতের তালিকায় উঠে আসে।
ঘটনার দিন বানিয়াচং এলাকায় পুলিশের অভিযানে এসআই সন্তোষকে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি শুধু ওইদিন নয়, এর আগেও বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে যাওয়াসহ নানা দমনমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এসব কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে ছিল।
সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করলে বানিয়াচং থানার ওসিসহ ৫৪ জন পুলিশ সদস্যকে সেনাবাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়। তবে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে এসআই সন্তোষকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার পর বানিয়াচংয়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং নিহত ও আহতদের পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানায়। ওই দিনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
