কুড়িগ্রাম–৩ (উলিপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় কুড়িগ্রাম রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উত্তেজনা ও হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছে। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দলটির নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এদিকে, মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘিরে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে প্রকাশিত কালের কণ্ঠের এক প্রতিবেদনে কুড়িগ্রামের বর্তমান জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা উপভূমি সংস্কার কমিশনার অন্নপূর্ণা দেবনাথকে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ওই সময় তার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অভিনন্দন জানিয়েছিল বিশ্ব হিন্দু মহাজোট—এমন তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে আসে। বর্তমান মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় সেই পুরোনো প্রতিবেদনের তথ্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে তাদের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তারা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের আশপাশে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
