মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক ইতিহাসে ফিলিস্তিনিদের জন্য এক গভীর শোকাবহ ও বিপর্যয়ের নাম ‘নাকবা’। ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইল নামক রাষ্ট্র ঘোষণার সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে তাঁদের নিজেদের ভিটেমাটি থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করা হয়। দিনটি প্রতি বছর ‘নাকবা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
আরবি ভাষায় ‘নাকবা’ শব্দের অর্থ ‘বিপর্যয়’। ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যে ইহুদিবাদী আধাসামরিক বাহিনীগুলোর দ্বারা পরিচালিত এই জাতিগত নিধন অভিযানে ফিলিস্তিনি সমাজের এক বিশাল অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। তাঁদের তৎকালীন জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে শরণার্থী হিসেবে ছড়িয়ে পড়েন।
দেশত্যাগে বাধ্য হওয়া এই বিশাল সংখ্যক মানুষ পরবর্তীতে অধিকৃত পশ্চিম তীর, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় নেন। সেই সময় থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফিলিস্তিনিরা তাঁদের হারানো অধিকার ও মাতৃভূমি ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি কেবল অতীত নয়, বরং চলমান এক সংগ্রামের নাম।
২০২৬ সালের ১৫ মে এই ঐতিহাসিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার ৭৮তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের দাবি অনুযায়ী, নাকবা বা এই বিপর্যয়ের ধারা এখনো শেষ হয়নি; বরং দখলদারিত্ব ও উচ্ছেদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আজও তাঁরা একইভাবে নির্যাতিত ও বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনিরা এই দিনে তাঁদের হারানো গ্রামের চাবিকাঠি হাতে নিয়ে প্রতীকী বিক্ষোভ ও সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের ফেরার অধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। দীর্ঘ আট দশক পেরিয়ে গেলেও ফিলিস্তিনিদের স্বাধিকার আন্দোলন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আজও এক বড় মানবিক ও রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে রয়েছে।
