আমাদের সমাজে দাফনের পর কবরের ওপর খেজুরের ডাল বা গাছের শাখা পুঁতে দেওয়ার একটি পুরোনো প্রচলন রয়েছে। অনেকেই ধারণা করেন, এটি সুন্নাত কিংবা এর মাধ্যমে কবরের আজাব নিশ্চিতভাবে মাফ হয়ে যায়।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় জানা যায়, একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় ওহীর মাধ্যমে জানতে পারেন যে, ওই দুই ব্যক্তির কবরে আজাব হচ্ছে। তখন তিনি একটি তাজা খেজুরের ডাল ভেঙে দুই ভাগ করে দুটি কবরের ওপর পুঁতে দেন। সাহাবারা কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ডাল দুটি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের আজাব কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করা যায়।” (বুখারী: ১৩৬১, মুসলিম: ২৯২)। আলেমরা একে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)–এর একটি বিশেষ মোজেজা হিসেবে উল্লেখ করেছেন
অধিকাংশ আলেমের মতে, এটি ছিল একটি নির্দিষ্ট ও ব্যতিক্রমী ঘটনা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওহীর মাধ্যমে আজাবের বিষয়টি জেনেছিলেন বলেই বিশেষ সুপারিশ হিসেবে ডাল পুঁতেছিলেন। যেহেতু সাধারণ মানুষের পক্ষে কবরের অবস্থা জানা সম্ভব নয়, তাই সবার কবরে এভাবে ডাল পোঁতা অনেক আলেমের দৃষ্টিতে অতিরঞ্জনের শামিল।
সুন্নাত না জায়েজ—এই প্রশ্নে আলেমদের মত হলো, কবরে ডাল পুঁতে দেওয়া কোনো বাধ্যতামূলক সুন্নাত নয়। তবে কেউ যদি তাজা উদ্ভিদের তাসবিহ বা বরকতের মাধ্যমে মৃতের উপকার হবে—এই নিয়তে একটি ডাল পুঁতে দেন, তাহলে তা জায়েজ হতে পারে। তবে এটিকে দাফনের অপরিহার্য অংশ মনে করার সুযোগ নেই।
ইসলামে কবরের চার পাশে নির্দিষ্ট সংখ্যক ডাল পোঁতা, ফুল দিয়ে সাজানো বা কবরকে মাজারের মতো জাঁকজমকপূর্ণ করার কোনো সমর্থন নেই। এসব বিষয়কে শরিয়তসম্মত বলা যায় না।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, মৃত ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে উপকারী হলো বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তেগফার করা, তার পক্ষ থেকে দান-সদকা করা এবং কবরের ওপর স্বাভাবিকভাবে জন্মানো তাজা ঘাস বা লতাপাতা অযথা উপড়ে না ফেলা।
মূলত কবরের আজাব থেকে মুক্তির প্রধান উপায় হলো ব্যক্তির নিজ আমল। খেজুরের ডাল পুঁতে দেওয়ার ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)–এর একটি বিশেষ সুপারিশের দৃষ্টান্ত মাত্র। তাই কুসংস্কার বা লোকাচার পরিহার করে সুন্নাহ অনুযায়ী মৃতের জন্য দোয়া করাই সর্বোত্তম পথ।
