প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার কলেবর আরও বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্ষমতায় আসার পরই তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তাঁর মন্ত্রিসভার পদগুলোতে ক্রমাগত উন্নতি দেখা না গেলে রদবদল করা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় এবং গত দুই ঈদের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবিকে সড়ক পরিবহন দপ্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য হচ্ছে, যেসব মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বেশি সেখানে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা এবং একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব একটি মাত্র দপ্তরেই সীমাবদ্ধ রাখা।
বর্তমানে অর্থ, বাণিজ্য, শিক্ষা ও পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর কাঁধে থাকায় কাজের গতি কিছুটা ধীর হচ্ছে। এই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে অন্তত পাঁচটি মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। এর আগে ২০০১ সালেও বিএনপি সরকারের সময় প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৬০ জনে উন্নীত করা হয়েছিল। নতুন এই পদক্ষেপে কয়েকজন উপমন্ত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসন থেকে একজন সদস্যকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি একাধিক অঞ্চলের নেতাদেরও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
সম্ভাব্য রদবদলের আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান এবং ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিবুন্নবী খান সোহেল এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ উপনেতা হিসেবে নিযুক্ত করার সম্ভাবনার সংবাদের সাথে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান, কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর নামও আলোচনায় আসছে।
এদিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিএনপি সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই পদত্যাগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণও করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য রাঙামাটি আসন থেকে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে দীপেন দেওয়ান এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তিনি পদত্যাগ করায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়েও এখন নতুন মুখ আসবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও দলীয় সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এই নতুন নিয়োগ ও রদবদলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলের চেয়ারম্যান ও সরকার প্রধান তারেক রহমানের এখতিয়ারভুক্ত এবং তিনি কখন কাকে কোন দায়িত্ব দেবেন তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে এবং কাজে গতি আনতে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর এই উদ্যোগ হবে একটি সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
