ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি গোপন নথি ফাঁস হওয়ার পর ইউরোপজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসলামবিদ্বেষ ছড়াতে গোপনে একটি সুইস কোম্পানির মাধ্যমে অর্থায়ন করেছে।
নথি অনুযায়ী, এই গোপন তথ্যযুদ্ধ বা ডিসইনফরমেশন অভিযান পরিচালিত হয়েছে ইউরোপের অন্তত ১৮টি দেশে। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো, মসজিদ ও ইসলামি সংগঠনগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে মানহানিমূলক প্রচার চালানো।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে একটি পুরো ধর্মকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। মুসলমানদের ইউরোপের ভেতরে ‘অভ্যন্তরীণ শত্রু’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সিভিল সোসাইটিকে দুর্বল করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপজুড়ে মসজিদ বন্ধে চাপ সৃষ্টি এবং ইউরোপীয় মুসলমানদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করার অভিযোগও উঠেছে।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই অভিযানে মিথ্যা খবর, ভুয়া অনলাইন নেটওয়ার্ক এবং সাজানো রিপোর্ট ব্যবহার করে ইসলামভীতি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার একটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ফাঁস হওয়া এই নথি ইউরোপীয় রাজনীতি ও মানবাধিকার মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আলোচনা শুরু হয়েছে।







