সিলেটে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতিত্ব ও ঘুস লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাত বা অনিয়মের সুযোগ নেই এবং কেউ যদি এক টাকা ঘুস দেওয়ারও প্রমাণ দিতে পারে, তবে তিনি নিজেই চাকরি ছেড়ে দেবেন।
বুধবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। জেলা প্রশাসক জানান, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০ কোটি টাকা ঘুস নেওয়ার গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। সিলেটে তিনজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন প্রার্থী নাগরিকত্ব ত্যাগের দাবি করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য কোনো সরকারি নথি জমা দিতে পারেননি। ফলে আইন অনুযায়ী তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই।
ঘুসের অভিযোগ প্রসঙ্গে সারওয়ার আলম বলেন, ১০ কোটি টাকা তো দূরের কথা, কেউ যদি এক টাকা ঘুস দেওয়ারও প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছেড়ে দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মেনে নেবেন। তিনি আরও বলেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং নির্বাচন নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।
পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নাকচ করে জেলা প্রশাসক দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, দশ কোটি নয়, দশ হাজার কোটি টাকায়ও তাকে কেনা সম্ভব নয়। নির্বাচনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, প্রশাসন যে কোনো মূল্যে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এজন্য সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি ফেক নিউজ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন।
উল্লেখ্য, কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী এম এ মালিকের কাছে ১০ কোটি টাকা ঘুস চাওয়ার অভিযোগ তুলে খবর প্রকাশ করা হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।







