ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশবিরোধী সহিংস বিক্ষোভে এবার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। গতকাল বুধবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ব্যানারে প্রায় দেড়শ জন উগ্রবাদী মুম্বাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ছিন্নভিন্ন করে এবং ‘বাংলাদেশ মুর্দাবাদ’সহ বিভিন্ন উসকানিমূলক ও বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দেয়।
মুম্বাইয়ের একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বিকেল পাঁচটার দিকে হঠাৎ করে বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশ মিশনের সামনে হাজির হয় এবং সহিংস আচরণ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ব্যবস্থা নেন এবং বিক্ষোভকারীদের মিশনের সামনে থেকে সরিয়ে দেন। এতে মিশনের ভেতরে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং সেখানে কর্মরত কর্মকর্তারাও নিরাপদ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত কিছুদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর সামনে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ ও সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এর আগে বাংলাদেশের কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনে হামলার পাশাপাশি একটি ভিসা সেন্টারে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এমনকি দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে হত্যার হুমকির ঘটনাও সামনে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে বাংলাদেশের নেওয়া পাল্টা অবস্থানের পর এসব গোষ্ঠীর আগ্রাসী তৎপরতা আরও বেড়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর আগে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা দাহ করলেও এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় সরাসরি অবমাননাকর হামলার ঘটনা ঘটল।
এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভারতের নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে বাংলাদেশের কলকাতা মিশন। এর আগে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলায় অবস্থিত উপ-হাইকমিশন থেকেও পর্যটন ভিসা দেওয়া বন্ধ করা হয়েছিল। ফলে এখন কলকাতাতেও এই সেবা স্থগিত হলো।
ঢাকা ও কলকাতার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঝুঁকি ও কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কাজে বাংলাদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভিসা সেবা আপাতত চালু থাকবে, কারণ এসব ভিসা বহুস্তরের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত থেকে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার নানা তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়েই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
