জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’ স্লোগানে প্রকম্পিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে নিজের অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ছেলে ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী আহমাদ আব্দুল্লাহ আরমান।
এক আবেগঘন বক্তব্যে তিনি জানান, ছাত্রজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই কাটালেও সে সময় ছাত্রলীগের আধিপত্যবাদী দাপট ও নির্যাতনের কারণে তাকে নিজের পরিচয় গোপন করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে। অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে পড়াশোনার সময় বাবার পরিচয় লুকিয়ে, ভিন্ন নামে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শিবির সন্দেহে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য নিজ চোখে দেখেছেন। ভর্তি ফরম বা রসিদ পূরণের সময় বাবার নাম অন্য হাত দিয়ে ঢেকে রাখতে হতো, যাতে কেউ পরিচয় বুঝতে না পারে। পরিচয় প্রকাশ পেলে কী পরিণতি হতো, তা সহজেই অনুমেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আহমাদ আব্দুল্লাহ আরমান জানান, কিছু বিশ্বস্ত বন্ধু ও কয়েকজন শিক্ষক তার জন্য ঢালের মতো দাঁড়িয়েছিলেন, যার জন্য তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নিজের ভাষায়, জীবনের স্বর্ণ সময় নিজের পরিচয় নিয়ে বাঁচতে না পারার কষ্ট আজও তাকে তাড়া করে।
বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সাফল্য ও ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ সেই প্রিয় ক্যাম্পাসে নারায়ে তাকবীরের ধ্বনি শুনে দূরে বসে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছেন। তিনি আল্লাহর দরবারে সব ত্যাগ ও কুরবানি কবুলের দোয়া করেন এবং বলেন, সবকিছুই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
