পশুর নদীর তীরে অবস্থিত রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান ও পরিবেশের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি এক সফরে দেখা যায়, কেন্দ্রটির চিমনি দিয়ে নির্গত কালো ধোঁয়া রাতের আকাশে এক বিষাক্ত আস্তরণ তৈরি করছে। যেখানে সারাবিশ্ব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, সেখানে বিগত সরকারের এমন সিদ্ধান্ত পরিবেশের জন্য আত্মঘাতী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অভিযোগ উঠেছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার কেবল ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং ভারতকে সন্তুষ্ট করতে আন্তর্জাতিক মহলের আপত্তি উপেক্ষা করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড বায়ুমণ্ডলকে বিষাক্ত করছে। এছাড়া পশুর নদী থেকে পানি গ্রহণ এবং বর্জ্য নিষ্কাশনের ফলে নদীর জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্যকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে সুন্দরবনের মর্যাদা রক্ষায় কোনো গুরুত্ব না দিয়ে কেবল রাজনৈতিক ও আর্থিক স্বার্থে এটি নির্মাণ করা হয়। এর ফলে স্থানীয় কৃষিভিত্তিক জীবিকাও এখন ধ্বংসের মুখে।
আন্তর্জাতিক এনার্জি সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শূন্যে নামিয়ে আনার কথা থাকলেও বাংলাদেশ বিপরীত পথে হেঁটেছে। যেখানে উন্নত দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জন করছে, সেখানে রামপাল প্রকল্পের মতো উদ্যোগ দেশকে দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এখন এই পরিবেশবিধ্বংসী প্রকল্পের প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
