ইরানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে এবং সর্বাত্মক ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট কার্যকর রয়েছে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনের অংশ হিসেবে ইরান সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ধারাবাহিকভাবে ডিজিটাল সেন্সরশিপ জোরদার করছে, যার সর্বশেষ রূপ হলো দেশব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা। এতে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের মৌলিক অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে নেটব্লকস।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরানি মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের অবমূল্যায়ন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত ও তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
চলমান অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকারের ভেতরে ভিন্ন বার্তা দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভ দমনে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
একইসঙ্গে দেশটির প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।
দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।







