ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার উনকোটি জেলায় সম্প্রদায়ভিত্তিক একটি সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোসাব্বির আলী নামের এক ব্যক্তির কাছে পূজার চাঁদা দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি কয়েকটি ঘর ও দোকানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
প্রাথমিকভাবে ফটিকরয় থানার অন্তর্গত কুমারঘাট এলাকায় একটি স্থানীয় মেলার চাঁদা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এক সম্প্রদায়ের লোকজন কাঠের একটি দোকানসহ কয়েকটি স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয় এবং একটি উপাসনালয়ে ভাঙচুর চালায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কুমারঘাট মহকুমা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) ও ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর) যৌথভাবে এলাকায় টহল দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ হালকা লাঠিচার্জ করে এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত আটজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উত্তেজনা যাতে পুনরায় ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং এলাকায় ১৬৩ ধারার আওতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ভৈরব মেলার আগেই এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার না করতে। প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও, এ ঘটনা সম্প্রদায়ভিত্তিক সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সামান্য ঘটনাকেও বড় সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। আসন্ন ভৈরব মেলার আগে জনশান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা টহল জোরদার রাখা হয়েছে।







