কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য দখলে নেওয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি (এএ)-এর সঙ্গে টানা চার দিনের সংঘর্ষে সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল দিবাগত রাত থেকে ভোর পর্যন্ত দুপক্ষের ব্যাপক গোলাগুলিতে সীমান্ত এলাকা কেঁপে ওঠে।
সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, সংঘর্ষের মধ্যে মিয়ানমার দিক থেকে পালিয়ে আসার সময় ৫৩ জন বিদ্রোহী সদস্যকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিন থেকে চারজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন আছেন। পরিস্থিতি আপাতত শান্ত রয়েছে। সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে স্থানীয়দের সড়ক অবরোধও তুলে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সীমান্তে গোলাগুলির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় জনপদেও। টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে এক শিশু মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহত শিশুর নাম তানজিনা আক্তার (১২)। সে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জসিম উদ্দিনের মেয়ে এবং লম্বাবিলের হাজি মোহাম্মদ হোসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত চার দিন ধরে হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তেচ্ছিব্রিজ এলাকার নিজ বাড়ির উঠানে খেলতে থাকা অবস্থায় তানজিনার মাথায় গুলি লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল জানান, গুলিবিদ্ধ শিশুটি এখনো জীবিত রয়েছে এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়া হয়েছে। আহত শিশুর পিতা জসিম উদ্দিনও জানান, তার সন্তান এখনো বেঁচে আছে এবং চিকিৎসা চলছে।
শিশুটি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা হাইওয়ে সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খোকন কান্তি রুদ্র জানান, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ৫৩ জন রোহিঙ্গা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্তে চলমান গোলাগুলির কারণে এপারে এসে গুলি লাগার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
