জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় আলোচনার পর আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি।
জোট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অন্তত ৮০টি আসন দাবি করে আসছিল। জামায়াতসহ জোটের শরিকরা শুরুতে ৪০টি আসন ছাড়ের প্রস্তাব দেয়, পরে তা বাড়িয়ে ৪৫টি করা হয়। পাশাপাশি ৬ থেকে ৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী আন্দোলন তাদের দাবিতে অনড় থাকে। এ অবস্থায় জোটে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে দলটির পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়।
এ পরিস্থিতিতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাদ দিয়ে জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলো আলাদাভাবে বৈঠক করে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়ে একমত হয়। খেলাফত মজলিসের একাংশের আমির মাওলানা মামুনুল হক আসন বণ্টন নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও তা ব্যর্থ হয়। পরে তিনি গভীর রাতে জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতাকে পুরো পরিস্থিতি অবহিত করেন।
জোটের শরিক দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলন জোটে না থাকলেও বাকি সব দল জোটে থাকছে। ফলে ১১ দলীয় জোট এখন কার্যত ১০ দলীয় জোটে রূপ নিচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আজ জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। এরপর স্থগিত থাকা সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
জোটের একাধিক নেতা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে চাপ বাড়তে থাকে। এনসিপির জোটভুক্ত হওয়াকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি দলটি। পরে তারা দাবি করে, ১৪৩টি আসনে তাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে এবং এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের আসনেও তারা প্রার্থী দিতে চায়।
জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলনকে ৮০টি আসন ছাড়লে শুধু সম্ভাবনাময় আসন হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কাই ছিল না, বরং অন্য শরিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও বাড়তি আসনের দাবি উঠতে পারত। এ কারণেই এতগুলো আসন ছাড়ার কোনো সুযোগ ছিল না। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে গেছে এবং দলটিকে ২৬৬টি আসনে এককভাবে নির্বাচন করতে হবে।







