বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও পক্ষপাতমূলক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের নাম ব্যবহার করে চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা ও সম্পাদকীয় কাঠামো দখল করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, লন্ডনপ্রবাসী জুবায়ের বাবু সম্প্রতি দেশে ফিরে সময় টিভির সিইও পদে বসেন। তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জুবায়ের বাবু বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতা ইশরাক হোসেনের সহায়তায় চ্যানেলটির নিয়ন্ত্রণ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর ছেলে ওমর শরীফ সানিয়াতকে উপদেষ্টা এবং বিএনপি-ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক মুজতবা খন্দকারকে হেড অব নিউজ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া হেড অব ডিজিটালসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের বসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, এসব নিয়োগের মাধ্যমে সময় টিভির সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং চ্যানেলটি রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ নিচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সময় টিভির সাবেক এমডি আহমেদ জুবায়ের, যিনি সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের ভাগিনা, তাকেও আবার চ্যানেলটিতে সক্রিয়ভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে চ্যানেলটির মাধ্যমে সরকারি এজেন্ডা বাস্তবায়নে তার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার পর তিনি আত্মগোপনে গেলেও পরে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের সহায়তায় আবার সময় টিভিতে ফিরে আসেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
এছাড়া সময় টিভির সাবেক চিফ রিপোর্টার খান মোহাম্মদ রুমেল ও সিনিয়র রিপোর্টার বুলবুল রেজাকেও নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিতর্কিত ভূমিকার কারণে যাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে তাদেরই পুনর্বাসন করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণমাধ্যমে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও পক্ষপাতমূলক নিয়োগ স্বাধীন সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য উদ্বেগজনক। একাধিক পক্ষ অভিযোগ তুলেছে, সময় টিভির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি শুধু গণমাধ্যম দখলের পথেই হাঁটছে না, বরং আওয়ামী লীগপন্থী বিতর্কিত ব্যক্তিদেরও পুনর্বাসনের সুযোগ দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।







