শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন তার স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা। পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ইনকিলাব মঞ্চ এখনো কোনো কর্মসূচির ডাক দিচ্ছে না।
বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই দীর্ঘ পোস্টে তিনি বিচার প্রক্রিয়ার বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ওসমান হাদিকে নিয়ে রাবেয়া ইসলাম সম্পার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
‘ওসমান হাদি হত্যার বিচার কি আদৌ হবে! ইনকিলাব মঞ্চ কোনো প্রোগ্রামের ডাক কেন দিচ্ছে না!
প্রথমত, “বিচার হবে না, এই শব্দটাকেই মাথায় আনা যাবে না। বিচার হতেই হবে, যেকোনো মূল্যে। বিচার আদায় না হলে ওসমান হাদিরা, বিপ্লবী বীরেরা এ দেশে আর জন্মাবে না। তবে এত দেরি বা সময় কেন লাগছে?
ওসমান হাদি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের দুটি লাইন উদ্ধৃত করেছিলেন—সহজ করে বলতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে।
তাই যুক্তি, তর্ক, ব্যাখ্যায় যাচ্ছি না। শুধু এটুকুই বলি—আপনি বা আপনারাও জানেন কেন সবকিছু সহজে হচ্ছে না। শুধু মনে রাখবেন, ওসমান হাদি বলে গিয়েছেন, আমাদের লড়াই অনেক দীর্ঘ। মুমিনের জীবন মানেই লড়াই-সংগ্রাম। তাই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে শহীদ ওসমান হাদির নিজের বলা কয়েকটি কথা আপনাদের জানাতে চাই—‘আমার প্রথম সন্তান ইনকিলাব মঞ্চ, দ্বিতীয় সন্তান ফিরনাস। পোলাপানগুলারে বেতন দেই না, ঠিকভাবে খাবারও খেতে পারে না কাজের জন্য। নিঃস্বার্থভাবে আমার সঙ্গে লেগে থাকে। ওদের ভবিষ্যতের চিন্তাও ওদের নেই। আমার তো ওদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে হবে ডিয়ার।’
আপনারা যারা ওসমান হাদিকে শুধু তার কথা শুনে, ভিডিও দেখে তাকে এত ভালোবাসেন, দোয়া করেন, কান্না করেন—তাহলে ভাবুন, তার এই ভাই-বোনগুলোর মনের অবস্থা এখন কী! যাদের কাছে তিনি ছিল ২৪ ঘণ্টার ছায়া, তারা কোন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে!
ওসমান হাদি বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন, আমাকে যা খুশি বলবেন, কিন্তু আমার ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনদের নিয়ে কথা বলবেন না। তা হলে আমি সহ্য করব না।’ দাসত্বই যে জমিনের নিশ্চল নিয়তি, লড়াই-ই সেখানে সর্বোত্তম ইবাদত—শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি।’
প্রসঙ্গত, জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি (৩২) গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরে দুর্বৃত্তের হামলায় আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিন দিন পর সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে জাতীয় কবির সমাধিপাশে তাকে দাফন করা হয়। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।







