জুলাই জাতীয় সনদ সংক্রান্ত গণভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচারণা নিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মো. শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের বিষয়টি সম্পর্কে জানার পরিধি সীমিত। বিশ্বের যেসব দেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে সরকার সাধারণত ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নেয়। বর্তমান সরকার সংস্কারের পক্ষে বলেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে। প্রকৃতপক্ষে গণভোটই হচ্ছে সংস্কারের একটি সমষ্টিগত প্যাকেজ, যাতে ভবিষ্যতে দেশে অপশাসন বা স্বৈরাচার ফিরে না আসে এবং শেখ হাসিনার মতো ‘শাহি দৈত্য-দানব’ তৈরি না হয়। সে কারণেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার হজরত শাহ ছৈয়দ আহমদ গেছু দরাজ শাহ পীর কল্লা (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, অতীতে দিনের ভোট রাতে হওয়ার কারণে মানুষ সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেনি। তবে এবার জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে। সরকার তার কার্যক্রমের মাধ্যমেই প্রমাণ করবে, নির্বাচনে তাদের কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব নেই।
এ সময় তিনি জানান, নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। সুষ্ঠু, অবাধ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিং কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পোস্টাল ব্যালটের কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে। এখন বলা যায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য কেবল অপেক্ষা করা হচ্ছে।
পরে প্রেস সচিব মাজারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।
এর আগে সকাল সাড়ে দশটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রিকনসিলিয়েশন নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো অনুশোচনার বক্তব্য শোনা যায়নি। বরং গতকাল দলটির এক মন্ত্রীর বক্তব্যে শহীদদের রক্ত নিয়ে তামাশার মনোভাব দেখা গেছে। তাদের মধ্যে অনুতাপের কোনো লক্ষণ নেই। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, খুনিদের কি সমাজে জায়গা দেওয়া যায়? খুনিদের জায়গা জেলখানায়।
প্রেস সচিব আরও বলেন, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ হবে। অতীতের অনেক নির্বাচনের তুলনায় এটি হবে সবচেয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু। আগে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, এক শহর থেকে অন্য শহরে পাঠানো কিংবা কারাগারে বন্দি করার ঘটনা ঘটেছে। এবার সে চিত্র থাকবে না। এই নির্বাচন হবে অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর।
এ সময় আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ, মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খাদেম মিন্টুসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মাজার কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।







