বিবিসির এক প্রতিবেদনে তালেবানের অভ্যন্তরে অস্বাভাবিক মতপার্থক্যের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানের শাসনব্যবস্থার ভেতরে বর্তমানে দুটি স্পষ্ট নেতৃত্বকেন্দ্রের মধ্যে বিভাজন দেখা যাচ্ছে—একটি কান্দাহারকেন্দ্রিক কঠোরপন্থী শিবির এবং অন্যটি কাবুলভিত্তিক তুলনামূলক বাস্তববাদী শিবির।
ফাঁস হওয়া একটি অডিও ক্লিপে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা অভ্যন্তরীণ বিভক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের বিভাজন ইসলামিক আমিরাতের পতনের কারণ হতে পারে। যদিও তালেবান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন বিভক্তির কথা অস্বীকার করেছে, তবে বিবিসির অনুসন্ধানে সংগঠনের ভেতরে দুটি পৃথক অবস্থানের অস্তিত্ব চিহ্নিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কান্দাহারভিত্তিক গোষ্ঠীটি কট্টর নীতিতে বিশ্বাসী। তারা আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে কঠোর শাসনব্যবস্থা বজায় রাখতে চায় এবং সামাজিক জীবনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে অবস্থান নেয়। নারীদের শিক্ষা ও সামাজিক উপস্থিতির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞাও এই শিবিরের নীতির অংশ।
অন্যদিকে কাবুলভিত্তিক গোষ্ঠীটি সীমিত আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কিছু নীতিগত শিথিলতার পক্ষে। এই গোষ্ঠীর মধ্যে নারীদের শিক্ষার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে শিথিল করার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সে সময় হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে তালেবানের শীর্ষ তিন নেতা—সিরাজউদ্দিন হাক্কানি, আবদুল গনি বারাদার ও মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ—এই নির্দেশ কার্যত বাতিল করে দেন। বিবিসির মতে, এই ঘটনা তালেবানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য ও নেতৃত্বগত দ্বন্দ্বের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
