চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ ও আংশিক সাতকানিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মসজিদে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর জোহাদিয়া দরবার মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন জসিম উদ্দিন। এ সময় তিনি নিজেকে এলাকাবাসীর সন্তান ও ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক ফেরত পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং উন্নয়ন, মানবকল্যাণ ও আসন্ন নির্বাচনে তাকে ম্যান্ডেট দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জসিম উদ্দিনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৩ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি এলাকাবাসীর সন্তান হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন এবং দীর্ঘদিন পর এই প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে। একই সঙ্গে তিনি অতীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে জনগণের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। বক্তব্যে তিনি নিজেকে সুন্নি মতাদর্শের অনুসারী উল্লেখ করে নির্বাচনে সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন।
মনোনয়নের খবর প্রকাশের পরপরই ফেসবুকে জসিম উদ্দিনের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি ও বক্তব্য নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবি ও ভিডিওতে তাকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের বিতর্কিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জসিম উদ্দিন আহমেদ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন। ওই সময় এক সভায় তাকে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্লোগানে অংশ নিতে দেখা যায়—এমন ভিডিও ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫–এর বিধি ১৮ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ সময়ের আগে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারেন না। একই সঙ্গে ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণাও নিষিদ্ধ।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে মসজিদে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, তিনি ভোট চাননি, শুধু সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং বিষয়টি ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অনুরোধ জানান।
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও আসনটির সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন বলেন, অভিযোগটি পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।







