ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলা ঠেকাতে সরাসরি কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ করেছে সৌদি আরব। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর যুক্তরাষ্ট্র যখন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন সৌদি আরবসহ একাধিক আরব দেশ চাপ প্রয়োগ করে ট্রাম্প প্রশাসনকে পিছু হটতে বাধ্য করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সৌদি আরবের আশঙ্কা ছিল, ইরানে হামলা হলে তেহরানের প্রতিশোধ আরও বড় ও নিয়ন্ত্রণহীন রূপ নিতে পারে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সৌদি আরবের এই উদ্যোগের সঙ্গে কাতার, ওমান ও মিসরও একই ধরনের কূটনৈতিক বার্তা দেয়। একাধিক আরব মিত্রের সম্মিলিত অবস্থান শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।
এর আগে ইরানে বিক্ষোভ দমনে কঠোর দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সামরিক হামলার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। তবে শেষ মুহূর্তে মিত্রদেশগুলোর অনুরোধ এবং তেহরানের পক্ষ থেকে কিছু ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিতের পর ট্রাম্প প্রশাসন হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
জানা গেছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে পাঠানো এক বার্তায় জানান, বিক্ষোভের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। এতে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হতে শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্র হামলা স্থগিত রাখলেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, ইরানের বিষয়ে “সামরিক বিকল্প এখনো টেবিলে রয়েছে।”
