চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র্যাব–৭–এর অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে একজন নায়েব সুবেদার নিহত হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকা ঘিরে যৌথবাহিনীর বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে ঘটনাস্থলের কাছেই দায়িত্বরত র্যাব–৭–এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন বলেন, র্যাব সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালানোর পর দ্রুত পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। কেউ যাতে পালাতে না পারে, সেজন্য সব প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ চেকপোস্টের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। যৌথবাহিনীর অভিযানের প্রস্তুতি চলছে, তবে কখন অভিযান শুরু হবে তা নিশ্চিত করা যায়নি।
র্যাব–৭ জানায়, সোমবার বিকেলে ১৬ সদস্যের একটি অপারেশন টিম গুরুত্বপূর্ণ এক আসামির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যায়। স্থানীয় পথঘাট ও ঝোপঝাড় চিহ্নিত করে ভেতরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি চারদিক থেকে টিমটিকে ঘিরে ধরে এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে।
এ হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন র্যাব নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব। গুরুতর আহত হন আরও তিনজন সদস্য। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
র্যাব–৭–এর এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ভেতরে কোনো নিরীহ মানুষ আছে কি না—তা নিশ্চিত করতে প্রথম মুহূর্তে গুলি চালানো হয়নি। আত্মরক্ষার ন্যূনতম চেষ্টা ছাড়া সদস্যরা অস্ত্র ব্যবহার করেননি। হামলাটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও আকস্মিক। তিনি জানান, শহীদ নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব ছিলেন অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্য। হামলাকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখে। কারা হামলা করেছে, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। র্যাবের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে এবং রাত থেকেই স্থানীয়দের চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বস্তিবাসী, পাহাড়ি বসতি এবং বিভিন্ন অসংগঠিত গোষ্ঠীর অবস্থান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এ এলাকায় অপরাধী চক্রের সক্রিয়তা ছিল। সোমবারের ঘটনার পর তল্লাশি ও নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, পাহাড়ের ভেতরে র্যাবের গাড়ি ঢুকতে দেখার পর গোলমালের শব্দ শোনা যায়। পরে চারদিকে পুলিশ ও র্যাব অবস্থান নেয়। আতঙ্কে কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।
র্যাবের দাবি অনুযায়ী, যে আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য টিমটি গিয়েছিল, তিনি একাধিক মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি এবং অস্ত্র লেনদেন চক্রের সঙ্গে যুক্ত। তবে ওই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশ ও র্যাব সূত্র বলছে, হামলাকারীদের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, পাহাড়ি দখল গোষ্ঠী এবং অস্ত্র বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা থাকতে পারে।
সোমবার রাত থেকেই সেনাবাহিনীসহ যৌথবাহিনীর একটি শক্তিশালী টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশপথগুলো সিলগালা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভোরের আগে বা সকালে অভিযান শুরু হতে পারে। র্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, এটি এখন শুধু একজন আসামিকে ধরার অভিযান নয়, বরং হামলার পর পুরো সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই বড় পরিসরের অপারেশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।







