বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান সক্ষমতা আধুনিকায়নের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। ইউরোফাইটার টাইফুন মাল্টিরোল ফাইটার জেট ক্রয় নিয়ে আলোচনা বাস্তব ও অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী (আন্ডার সেক্রেটারি ফর ডিফেন্স) মাত্তেও পেরেগো দি ক্রেমনাগোর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূতসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক প্রযুক্তি বিনিময় এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ব্যবহৃত ইতালীয় উৎসের সরঞ্জাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ইতালির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লিওনার্দো এস.পি.এ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মধ্যে একটি প্রাথমিক লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রাথমিক ধাপে ১০ থেকে ১৬টি ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত প্যাকেজে যুদ্ধবিমান ছাড়াও পাইলট ও গ্রাউন্ড ক্রুদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা, স্পেয়ার পার্টস এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা রয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার সুপিরিয়রিটি, মাল্টিরোল অপারেশন সক্ষমতা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। আধুনিক রাডার, উন্নত এভিওনিক্স ও বহুমুখী যুদ্ধক্ষমতার কারণে ইউরোফাইটার টাইফুন যুক্ত হলে আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বিমান বাহিনীর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
এ উদ্যোগকে বাংলাদেশ সরকারের Forces Goal 2030 বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আধুনিক ও উন্নত যুদ্ধবিমান সংযোজনের মাধ্যমে বিমান বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং কৌশলগত সক্ষমতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।







