নীরব কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা। এর ফলে YPG/SDF নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার বিস্তৃত এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে দামেস্ক সরকার—এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে দামেস্ক, প্যারিস ও ইরাকে ধারাবাহিক বৈঠকে সিরীয় কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় অংশীদারদের জানিয়ে দেন যে, সরকার YPG/SDF-এর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই আলোচনাগুলোতে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে YPG/SDF-এর প্রধান মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র এবার এই সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে আপত্তি তোলে না। বরং পরে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানায়, তারা ভবিষ্যতে সিরীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতেই বেশি আগ্রহী। এ অবস্থান পরিবর্তনকে উত্তর-পূর্ব সিরিয়া ইস্যুতে মার্কিন নীতির বড় ধরনের মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক সরাসরি YPG/SDF নেতৃত্বকে জানিয়ে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকার এখন আর SDF নয়; বরং প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার সরকারের সঙ্গেই ওয়াশিংটন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়।
এই বার্তার মধ্য দিয়ে কার্যত স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। YPG/SDF-এর পরিবর্তে এখন দামেস্ককেই বৈধ ও কার্যকর অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরব কূটনৈতিক সাফল্য সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন অধ্যায় সূচিত করেছে।
