ভোলার চরফ্যাশনে পছন্দের প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় হাজেরা বেগম নামে এক নারীকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে ওই নারীর নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকেও মারধর ও পেটে লাথি মারা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানাধীন চর মানিকা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন (৩৭) ওই এলাকার শাহাদাৎ হাওলাদারের ছেলে এবং ইউনিয়ন যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচিত।
আহত হাজেরা বেগম বর্তমানে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রোববার শাহাবুদ্দিন তাকে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে বের হওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় সোমবার সকালে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় বের হন। এ সময় শাহাবুদ্দিন তাকে বাধা দেন এবং হুমকি দেন। হুমকি উপেক্ষা করলে তাকে গালিগালাজ করে মারধর করা হয়।
হাজেরা বেগম আরও জানান, মারধরের সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে শাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী লাইজু বেগম তার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে লিমাকে মারধর করেন এবং পেটে লাথি মারেন। একপর্যায়ে শাহাবুদ্দিন তার কান ছিঁড়ে স্বর্ণালংকার নিয়ে যান এবং কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসক তার মাথায় ছয়টি সেলাই ও ছিঁড়ে যাওয়া কানে দুটি সেলাই দেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন নারী ও পুরুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে শাহাবুদ্দিন এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি বলেও অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, তার ভাই হেলালও একইভাবে প্রভাব খাটিয়ে দখল বাণিজ্যে জড়িত।
এ ঘটনায় হাজেরা বেগমের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান কবির বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







