প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ও গণভোট-সচেতনতামূলক প্রচারণার প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জাতির সাফল্যের দ্বার উন্মোচনের চাবিকাঠি জনগণের হাতেই রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশকে সংস্কার করতে হলে এবং সাম্য ও মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে আসন্ন গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিতে হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর প্রতীক হিসেবে টিক চিহ্ন ব্যবহৃত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের মিলনায়তনে খুলনা বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে গণভোট প্রচারণা ও ভোটার প্রেরণা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাইয়ের জাতীয় সনদ ২০২৫ দেশের জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। যদিও সনদটি কালো কালিতে মুদ্রিত, বাস্তবে এটি রক্ত দিয়ে লেখা। যুবসমাজের ত্যাগে সরাসরি অংশ নেওয়া সবার পক্ষে সম্ভব না হলেও, জুলাই ২০২৫-এর জাতীয় সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া সবার সম্মিলিত দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আসন্ন গণভোটই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকলেও, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কোনো আইনি বাধা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা। তিনি গণভোটকে নতুন বাংলাদেশ ও নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে একটি ঐতিহাসিক জনমত হিসেবে অভিহিত করেন। জুলাইয়ের জাতীয় সনদের পক্ষে রায় সংবিধানে ফ্যাসিবাদের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদুল হাসান।
সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসকসহ বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের সদস্য, এনজিও প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।







