জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে একজন ব্যক্তি এসে দেশের মুসলমানদের কুফরি আখ্যা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি নতুন বাংলাদেশ চাই, যেখানে ভারতের আশীর্বাদ নিয়ে দেশ শাসনের রাজনীতি থাকবে না।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে জামায়াতের আমিরসহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
সমাবেশে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে আজানের ধ্বনির আলোকে মানুষের জীবন পরিচালিত হবে। পুরোনো ধাঁচের রাজনীতি অব্যাহত থাকলে এত মানুষের আত্মত্যাগ অর্থহীন হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান রাজনীতিতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি একাকার হয়ে গেছে। কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে শহর ও গ্রামে চাঁদাবাজি করা। উপরে রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও ভেতরে ভেতরে তারা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তাই চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়াই জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী পরিবেশে নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কোনো অধিকার কারও নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সিলেট সফরে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে মিলন বলেন, একটি বড় দলের প্রধানের বক্তব্যে শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেই আক্রমণ করা হয়েছে। জান্নাতের টিকিট বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলাম অনুযায়ী কেউ শুধু আমলের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে না। তাই এ ধরনের বক্তব্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের কুফরি আখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত আপত্তিকর। যে রাজনীতিবিদরা ভারতের সমর্থনে দেশ শাসন করতে চান, এমন শাসন বাংলাদেশ চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেষে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়ে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, চাঁদাবাজমুক্ত ও দখলবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ইনশাআল্লাহ আগামীর বাংলাদেশ হবে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক, সুখী ও সমৃদ্ধ একটি রাষ্ট্র।







