যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিক ও কয়েকজন নারী সাংবাদিকের মধ্যে কথোপকথনের একটি অডিও সংগ্রহ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। ওই অডিওতে কূটনীতিককে বলতে শোনা যায়, বাংলাদেশ ক্রমেই ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকছে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ওই অডিওতে ঢাকাভিত্তিক মার্কিন কূটনীতিক নারী সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন, তারা ছাত্রশিবিরের নেতাদের টেলিভিশন টকশোতে আমন্ত্রণ জানাবেন কি না। তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী শরীয়াহ আইন চালু করবে না বলেই তাদের ধারণা। তবে যদি শরীয়াহ আইন চালু হয় এবং নারীদের কাজের সময় পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ করার মতো বিধান আনা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে আর কোনো অর্ডার দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কূটনীতিকের ভাষায়, ‘অর্ডার না থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতিও থাকবে না।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ও উচ্চশিক্ষিতদের মাধ্যমে শরীয়াহ আইন চালুর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে প্রচারণা চালানো হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ওপর শুল্ক আরোপের কথাও বিবেচনায় আসতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওয়াশিংটন পোস্ট বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র মোনিকা শিই এই ধরনের আলোচনার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, গত ডিসেম্বর মাসে নিয়মিত বৈঠকের অংশ হিসেবে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা কয়েকজন বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে এই আলোচনা করেন। তবে এসব কথাবার্তা সাধারণত প্রকাশ করা হয় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে মোনিকা শিই জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না। জনগণের ভোটে যে সরকারই নির্বাচিত হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে।
অন্যদিকে, ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠক নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করার নীতির কথা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান বলেন, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ওয়াশিংটনে জামায়াতে ইসলামী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে চারবার বৈঠক হয়েছে। এছাড়া ঢাকায়ও একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রেয়ারের সঙ্গে ভার্চুয়ালি একটি বৈঠকও করেছে জামায়াতে ইসলামী।







