মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে সন্দেহজনক সামরিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি An-124 কার্গো বিমানের রহস্যজনক ফ্লাইট চলাচল। সাম্প্রতিক সময়ে বিমানটি আবুধাবি, ইসরায়েল, বাহরাইন ও ইথিওপিয়ার একাধিক সামরিক ঘাঁটির মধ্যে বারবার যাতায়াত করেছে বলে বিভিন্ন ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা গেছে।
এই ফ্লাইটগুলো এমন এক সময়ে পরিচালিত হয়েছে, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। একই সঙ্গে আফ্রিকার দেশ সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধ ও সামরিক সংঘাত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে এসব ফ্লাইটের সময় ও গন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, An-124 হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কার্গো বিমান, যা ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, ভারী অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই সক্ষমতার কারণে বিমানটির সাম্প্রতিক ফ্লাইটগুলো গোপন অস্ত্র সরবরাহ কিংবা সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল, বাহরাইন ও ইথিওপিয়ার সামরিক স্থাপনায় এই ধরনের বিমানের ঘন ঘন উপস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে সুদানের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাহ্যিক সামরিক সহায়তার অভিযোগ আগেও উঠেছে, যা এই ফ্লাইটগুলোর তাৎপর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সংশ্লিষ্ট কোনো দেশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসব রহস্যজনক সামরিক ফ্লাইট আন্তর্জাতিক মহলে গভীর নজরদারির বিষয় হয়ে উঠেছে।







