বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, নতুন লন্ডনি ইমাম বারবার বলেন ‘দিল্লিও নয়, পিন্ডিও নয়—সবার আগে বাংলাদেশ’, কিন্তু সাধারণ মানুষ এতে শুনছে ‘দিল্লিও নয়, পিন্ডিও নয়—সবার আগে লন্ডন’। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে আসার আগে দিল্লির কাছে দস্তখত দিয়ে বলা হয়েছে—বাংলাদেশ তাদের কাছে নিরাপদ নয়।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পঞ্চগড় জেলা চিনিকল মাঠে দশ দলীয় জোটের আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের জোট মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম এবং পঞ্চগড়-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সফিউল্লাহ সুফীসহ জোটের অন্যান্য নেতারা।
রাশেদ প্রধান বলেন, লন্ডন থেকে আসা ওই ইমাম নতুন করে একটি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগে ফ্যাসিবাদীরা দশ টাকার চাল খাওয়ানোর কথা বলেছিল, আর এখন নতুন লন্ডনি মুফতি কার্ডের কথা বলছেন। দেশের মানুষ এসব কার্ডের খেলায় আর বিশ্বাস করে না। তিনি পুনরায় দাবি করেন, দেশে ফেরার আগে দিল্লির কাছে দস্তখত দিয়ে বলা হয়েছে—বাংলাদেশ নিরাপদ নয়।
তিনি বলেন, দশ দলীয় জোটের নেতা ডা. শফিকুর রহমান ক্ষমতায় গেলে ৬ বছরের নিচে শিশু ও ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্কদের বিনা টাকায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি পঞ্চগড় জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
রাশেদ প্রধান আরও বলেন, দশ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে পঞ্চগড়ের চিনিকল আবার জেগে উঠবে। এজন্য পঞ্চগড়ের দুই আসনে শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জোট প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমানের চুল ও দাঁড়ি সাদা হলেও তিনি মানসিকভাবে তরুণ বলেও মন্তব্য করেন।
জাগপার মুখপাত্র বলেন, ঈমানি দায়িত্ব হিসেবে প্রথমত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে দশ দলীয় জোটকে বিজয়ী করতে হবে। তিনি দাবি করেন, ডা. শফিকুর রহমান অন্য অনেক নেতার মতো দেশের ধনী অঞ্চল থেকে রাজনীতি শুরু করেননি; বরং তিনি পিছিয়ে পড়া উত্তরাঞ্চল থেকেই তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছেন।
সমাবেশে তিনি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, বেশি করও না—দিল্লি গিয়ে পড়বা; যা আজ প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।







