যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তেহরানের একটি বিশেষ সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরান সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
উচ্চ নিরাপত্তা ও বিকল্প নেতৃত্ব
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একটি উচ্চপর্যায়ের মূল্যায়নের পর খামেনিকে নিরাপদে রাখার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং সেখানে পরস্পর সংযুক্ত একাধিক টানেল রয়েছে, যা যেকোনো বড় ধরনের বিমান হামলা মোকাবিলায় সক্ষম।
একই সঙ্গে জানা গেছে, সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। খামেনির তৃতীয় পুত্র মাসউদ খামেনি বর্তমানে তার দপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সরকারের নির্বাহী শাখাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করছেন, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতেও প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড বজায় থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল রণপ্রস্তুতি
এদিকে, ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, ইরানে হামলা চালানোর প্রস্তুতি প্রায় গুছিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিলেও পেন্টাগন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের শক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত আট মাসের মধ্যে এই অঞ্চলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার এবং অত্যাধুনিক ফাইটার স্কোয়াড্রোনস ইতিমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া আকাশ ও মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
যুদ্ধের দামামা ও পাল্টা হামলার হুমকি
ইসরাইলি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, হামলার পর ইরান যে পাল্টা হামলা চালাতে পারে, সেটি মোকাবিলার প্রস্তুতিও সেরে রেখেছে মার্কিন সেনারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান উত্তাল অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই খামেনিকে বাঙ্কারে সরিয়ে নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।







