সামরিক ও প্রতিরক্ষাশিল্পে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ বা সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মিরসরাইয়ে পূর্বে প্রস্তাবিত ও পরবর্তীতে বাতিল হওয়া ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৮৫০ একর জায়গায় এই বিশেষ অঞ্চলটি গড়ে তোলা হবে।
গতকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। বৈশ্বিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনই এর মূল লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বেজার মাস্টারপ্ল্যানে এই ৮৫০ একর জায়গাকে এখন থেকে সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রায় ৬৫০ একর জমিতে একটি ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ বা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠারও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের প্রাথমিক কাজ শুরু হতে পারে।
একই সভায় পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিদ্যমান আইনি বাধা দূর করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে দেশে ৩৩১টি পৌরসভা রয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে আগে পৌরসভার ভেতর কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চল করা যেত না, ফলে বাধ্য হয়ে কৃষিজমিতে প্রকল্প নিতে হতো। এখন নিয়ম পরিবর্তনের ফলে পৌরসভার ভেতরে থাকা বন্ধ শিল্পকারখানাগুলোতে নতুন করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরুর সুযোগ তৈরি হবে, যা কৃষিজমি রক্ষায় সহায়ক হবে।
